শুক্রবার, ২৭ জুলাই, ২০১৮
বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৮
রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪
বাঘায় নাড়ী ভুড়ী পেটের বাহির অবস্থায় পুত্র সন্তানের জন্ম
সেলিম ভান্ডারী, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :: কে বোঝে খোদার অপার নিলে। দেহের সকল গঠন সঠিক থাকলেও নাড়ী ভুড়ী বাহিরে এমন সন্তান জন্ম নিয়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম উত্তর পাড়ায় আবুল হোসেনের বড় ছেলে মহরম আলীর স্ত্রীর গর্ভে। নাড়ী ভুড়ী পেটের বাহির অবস্থায় ওই পুত্র সন্তানটি বেঁচে আছে ২২ ঘন্টা। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিুশুটিকে দেখার জন্য আগ্রহপ্রবন এলাকাবাসী ওই বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন।
ওই নবজাতকের মাতা রোজিনা বেগম জানান, গত শনিবার রাত ১০ টার সময় পেটের ব্যাথা আরম্ভ হয়। পরে পারিবারিক ভাবে তাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত ১২ টার সময় নর্মালী বাচ্ছা প্রসব করেন তিনি। কিন্ত সম্পূর্ণ দেহের গঠন ঠিক থাকলেও পেটের নাভী পথে নাড়ী ভুড়ী বাহিরেই রয়েছে। এমতাবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি দেখে অবাক। কি করবেন ভেবে না পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, দ্রুত অপারেশন করা লাগবে তাতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হবে। এরপরেও রুগীটি বাচবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে খুবই দরিদ্র পরিবার হওয়ায় তাৎক্ষনিক টাকার যোগান দিতে পারেনি। পরে টাকার অভাবে ওই অবস্থায় রুগীটি বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আজ বোববার রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত শিশুটি জিবিত রয়েছে। শেষ চিকিৎসা হিসেবে গ্রামের অনেক পুরাতন ও অভিজ্ঞ পল্লী চিকিৎসক ডাঃ নূরুজ্জামান ভান্ডারীকে ডাকেন তারা। ডাক্তার সাহেব শিশুটিকে দেখে বলেন, এমতাবস্থায় আর কিছুই করার নাই। কারণ নাড়ীভুড়ি গুলো ফুলে যাওয়ার কারণে সেগুলো আর ভিতরে প্রবেশ করানো যাবেনা। তবে প্রসবের পর তাৎক্ষনিক ভাবে নাড়ী ভুড়ীগুলো পেটের ভিতর ঠুকিয়ে দিয়ে সেলাই করলে বাচ্ছাটি বেঁচে যেত। এমন রুগী এর পূর্বে তিনি আরো ২ টি পেয়েছিলেন। তিনি চিকিৎসা দিয়ে এখনো তারা সুস্থ্য অবস্থায় বেঁচে আছেন।
ওই নবজাতকের মাতা রোজিনা বেগম জানান, গত শনিবার রাত ১০ টার সময় পেটের ব্যাথা আরম্ভ হয়। পরে পারিবারিক ভাবে তাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত ১২ টার সময় নর্মালী বাচ্ছা প্রসব করেন তিনি। কিন্ত সম্পূর্ণ দেহের গঠন ঠিক থাকলেও পেটের নাভী পথে নাড়ী ভুড়ী বাহিরেই রয়েছে। এমতাবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি দেখে অবাক। কি করবেন ভেবে না পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, দ্রুত অপারেশন করা লাগবে তাতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হবে। এরপরেও রুগীটি বাচবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে খুবই দরিদ্র পরিবার হওয়ায় তাৎক্ষনিক টাকার যোগান দিতে পারেনি। পরে টাকার অভাবে ওই অবস্থায় রুগীটি বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আজ বোববার রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত শিশুটি জিবিত রয়েছে। শেষ চিকিৎসা হিসেবে গ্রামের অনেক পুরাতন ও অভিজ্ঞ পল্লী চিকিৎসক ডাঃ নূরুজ্জামান ভান্ডারীকে ডাকেন তারা। ডাক্তার সাহেব শিশুটিকে দেখে বলেন, এমতাবস্থায় আর কিছুই করার নাই। কারণ নাড়ীভুড়ি গুলো ফুলে যাওয়ার কারণে সেগুলো আর ভিতরে প্রবেশ করানো যাবেনা। তবে প্রসবের পর তাৎক্ষনিক ভাবে নাড়ী ভুড়ীগুলো পেটের ভিতর ঠুকিয়ে দিয়ে সেলাই করলে বাচ্ছাটি বেঁচে যেত। এমন রুগী এর পূর্বে তিনি আরো ২ টি পেয়েছিলেন। তিনি চিকিৎসা দিয়ে এখনো তারা সুস্থ্য অবস্থায় বেঁচে আছেন।
শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৩
প্রত্যেক মানব জাতির জন্য হক্কানি পীরের হাতে বায়াত গ্রহণ অপরিহার্য
: সেলিম ভান্ডারী :
মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেনÑ নিশ্চয়ই যারা আপনার হাতে বায়াত করছে; নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর হাতে বায়াত করছে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। সুতরাং, তারা যদি এটা ভঙ্গ করে, তবে তারা স্বীয় জীবনের ওপর তা ভঙ্গ করে এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা রক্ষা করেছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের দেবেন অতি মহান পুরস্কার। (সূরা ফাতহ-১০আয়াত)। সুতরাং নিজের জীবন গঠনে আল্লাহ প্রাপ্তির সহজ উপায় হিসেবে তরিকতের পীর ও হক্কানি উস্তাদের হাতে বায়াত গ্রহণ করা অপরিহার্য। এ বিষয়ে মুসলিম শরীফে রয়েছে ‘যে ব্যক্তি বায়াত এর বন্ধন, সংঘ ও নেতার প্রতি আনুগত্যের শপথ ছাড়া মারা গেল, সে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের মৃত্য বরণ করল’। এছাড়াও বায়াত হওয়া মানে অন্যতম মানুষ হবার একটি প্রধান রাস্তা। শুধু তাই নয়, সকল মানুষের বায়াত হওয়া অবশ্যই ফরজ। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বায়াত হওয়াটা কি আসলেই ফরজ? তার আগে আমাদের বোঝতে হবে বায়াত বলতে কি বুঝায়? ইসলামের মূল ৫টি ভিত্তি হলো : ১। নামাজ, ২। রোজা, ৩। হজ্ব, ৪। যাকাত, ৫। কলেমা। এই ৫টি ভিত্তি ছাড়াও আগে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ‘ঈমান’। ইসলাম ধর্ম মতে প্রথম কাজ হলো ঈমান আনা, অর্থাৎ আল্লাহ্ এক তাঁর কোন শরিক নাই, মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, ফেরেস্তায় ও আখেরাতে বিশ্বাস স্থাপনই হলো ঈমান। ঈমান ছাড়া আপনি মুসলমান হতে পারবেন না। ঈমানের সমার্থক শব্দ হলো প্রক্ষান্তরে বায়াত, নবীজী ( সাঃ ) -এর যুগে সকলে নবীজী (সাঃ) এর নিকট বায়াত হয়েছেন, এখন নবীজী (সাঃ) নাই, কিন্তূ ‘উলিল আমর’ আছেন, একজন উলিল আমর হচ্ছেন- স্রষ্টার প্রতিনিধি, যাদের আমরা পীর-মুর্শিদ নামে জানি। কেউ যখন কোন পীর-মুর্শিদের হাতে হাত রেখে বায়াত হন, তখন তিনি সরাসরি স্রষ্টার হাতেই হাত রেখে বায়াত হন। বায়াত হচ্ছে ঈমানের মূল বিষয় গুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা, ঈমানের মূল বিষয় গুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপনের শপথ নেওয়া। এ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রভূর নিকট নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে সমর্পণ করা। ঈমানের পূর্ণ আনুগত্য করাই হলো বায়াত। বিশ্বাসে যদি ফাঁক থাকে তবে কোন কাজেই উন্নতি সম্ভব নয়।
"বায়াত" নিয়ে আমাদের আরও বিশদ আলোচনার দরকার। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশেষ নবী বা রাসুল। মহান আল্লাহ আদম জাতি সৃষ্টি করার পর তাদের হেদায়েত এর জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন নবী বা রাসুল প্রেরণ করেছেন। যেহেতু আমাদের নবী ছিলেন সর্বশেষ, তাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না বা আসার প্রয়োজনও নাই, কেননা আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য জীবন বিধান পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তা ছাড়া, আমরাই হলাম সর্বশেষ নবী'র সর্বশেষ উম্মত। আসলে ইসলামের দৃষ্টিতে বায়াত হচ্ছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শপথ। কোন অজুহাত না দেখিয়ে হুকুম পালন করা। রাসুল (সাঃ) এর সময় যারা অজুহাত দেখাতো তাদের মুনাফিক বলা হতো। আসলে বায়াত হচ্ছে নিজেকে স্রষ্টার পুরোপুরি সমর্পণের আনুষ্ঠানিক ও অলঙ্ঘনীয় স্বীকৃতি ও শপথ।
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পুরোপুরি সমর্পিত (বায়াত) না হয়ে মারা যেও না।’-(আল ইমরান: ১০২ আয়াত)। বায়াতের মাধ্যমে গঠিত হয় সৎসঙ্ঘ। পবিত্র কোরাআনের দৃষ্টিতে সৎসঙ্ঘে সঙ্ঘবদ্ধ থাকা এবং নেতার নির্দেশ অনুসরণ করাও ফরজ। বিদায় হজে নবীজী (সাঃ) পাঁচটি কাজের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিঁনি বলেছেন-‘ নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রোজা রাখবে, হজ করবে আর সঙ্ঘবদ্ধভাবে নেতাকে অনুসরণ করবে ( এখানে বায়াতের কথা বুঝিয়েছেন), তা হলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।’ আশা করি উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারবেন -“বায়াত হওয়া কি ফরজ, না কি ফরজ না?” " বায়আ'ৎ"- আরবী শব্দটি আভিধানিক দৃষ্টিতে 'বাইউন" শব্দের অনুরূপ, যাহার অর্থ বিক্রয় করা। বিক্রয় ক্ষেত্রে ক্রয়ও হয়। এক পক্ষ হইতে বিক্রয় অপর পক্ষ হইতে ক্রয়। উভয়ের কার্যকে আরবীতে "মোবায়াআ'ৎ" বলা হয়। ইসলামের পরিভাষায় "বায়আ'ৎ" বলা হয়। কোন মহানের হস্ত ধারণ করিয়া বিশেষ প্রতিজ্ঞা বা অঙ্গীকারের উপর দীক্ষা গ্রহণ করা। এই ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ। হস্ত ধারণকারী, অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞাকারী, অপর পক্ষ হলো যাহার হস্ত ধারণ করা হয়, যার কাছে অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞা করা হয়। এই ক্ষেত্রেও উভয়ের কাজ "মোবায়াআ'ৎ" বলা হয়। ক্রিয়াপদও ঐরূপ হইবে। ইসলামে যে বায়াত হয় সেই বায়াত কোনো মহান মানুষের হস্তেই ধারণ করা হয়। যেমন: সাহাবীগণ নবীজীর হস্ত ধারণ করিতেন এবং তদ্রুপ কোনো পীর বুজুর্গের হস্ত ধারণ করা হয়। কিন্তু ইসলামের বায়াতকে কঠোরতর সাব্যস্তকরন উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআন স্পষ্ট বলা হইয়াছে যে, এই বায়াতে যদিও কোনো মানুষের হস্তধারণ করা হয়, কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহ্র হস্ত ধারণ গণ্য করিবে। (বুখারী শরীফ হইতে উদ্ধৃত)। আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, "তোমরা আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের এবং প্রাজ্ঞ নেতার আনুগত্য কর"। এখন তো রাসুল (সাঃ) আমাদের মাঝে নেই তাই আমাদেরকে প্রাজ্ঞ নেতার আনুগত্য করতে হবে। আর এটিই হল বায়াত এবং এটি অত্যন্ত জরুরী। যেমন সাহাবায়ে কেরামরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেছেন। এর পরবর্তীরা সাহাবায়ে কেরামদের কাছে। এবং এর পরবর্তীরা তাবেয়ীন, তাবঈ-তাবেয়ীনিদের কাছে। এভাবে ওস্তাদ শিষ্য বা পীর মুর্শিদের মাধ্যমে বায়াতের সিলসিলা আজো প্রচলিত আছে। তবে মাঝখানে এসে এর থেকে বেশ কিছু ধারা বেরিয়েছে। যেমন- কাদরিয়া, চিশতিয়া, মোজাদ্দেদিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া, নকশবন্দিয়া ইত্যাদি। ১। কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি এরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত মুহসিন বা আল্লাহওয়ালাগণদের নিকটে।” (সূরা আ’রাফ : আয়াত শরীফ ৫৬)। ২। পবিত্র কুরআন শরীফ এ উল্লেখ রয়েছে, কামিল মুর্শিদের গুরুত্ব সম্পর্কে কালামুল্লাহ শরীফ-এ এরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক যাঁকে হিদায়েত দান করেন, সেই হিদায়েত পায়। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, সে কোন ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল শায়খ বা পীর) উনার ছোহবত লাভ করতে পারে না। (সূরা কাহাফ - ১৭) । ৩। আল্লাহ পাক বলেন, “তোমরা সব আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও”। (সূরা ইমরান-৭৯)। ৪। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালাম পাক-এ এরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাককে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণের সঙ্গী হও।” (সূরা তওবা- ১১৯ আয়াত) এখানে ছাদিক্বীন বলতে ওলী-আল্লাহ গণকেই বুঝান হয়েছে। ৫। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে আরো বলেন, “আল্লাহ পাক এর রাসুলের ইত্বায়াত কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা (উলিল আমর) আদেশদাতা, তাদের অনুসরণ কর”। ৬। আল্লাহ পাক বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমাকে পাওয়ার জন্য উসিলা তালাশ কর”।
৭। পবিত্র কুরআন শরীফ আরো উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “আপনি নিজেকে উনাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যাঁরা সকাল-সন্ধ্যায় উনাদের রবকে ডাকে উনার সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য ক্বলবী যিকির করেন, তিঁনার অনুসরণ ও ছোহ্বত (সাক্ষাত) এখতিয়ার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।” (সূরা কাহাফ- ২৮)। ৮। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়ছে, “হুযুর পাক (সাঃ) বলেন, আদম সন্তানের শরীরে এক টুকরা গোস্ত আছে যদি সেটা শুদ্ধ হয়ে যায় তবে সমস্ত শরীর শুদ্ধ হয়ে যায়। আর যদি সেটা অশুদ্ধ হয় তাহলে সমস্ত শরীর অশুদ্ধ হয়ে যায়, সাবধান ওটা হচ্ছে ক্বলব”। (বুখারী শরীফ)। ৯। মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “যার ক্বলবে আমার যিকির জারি নেই সে নফসের অনুসরণ করে এবং তার আমলগুলো হয় শরীয়তের খিলাফ”। ১০। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেন, “সাবধান! আল্লাহ পাকের যিকির দ্বারা দিল ইতমিনান হয়”। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শয়তান আদম সন্তানের কলবের উপর বসে, যখন আল্লাহ পাকের যিকির করে তখন পালিয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ পাকের যিকির থেকে গাফিল হয় তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়”। ১১। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক (সাঃ) হাদীছ শরীফ-এ এরশাদ করেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য (জরুরীত আন্দাজ) ইলম অর্জন করা ফরয। (বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, শরহুত্ ত্বীবী, মোযাহেরে হক্ব, আশয়াতুল লুময়াত)। ১২। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক (সাঃ) বলেন, “ইলম দু’প্রকার- (১) ক্বলবী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ। আর এটাই মূলতঃ উপকারী ইলম। (২) যবানী ইলম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ্, যা আল্লাহ্ পাক, উনার পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল। (দারিমী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, দাইলামী, বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব)। সকলেই একমত যে, ইলমে তাছাউফ অর্জন করার মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করতঃ হুযূরী ক্বলব হাছিল করা তথা অন্ততঃপক্ষে বিলায়েতে আম হাছিল করা ফরয। এ ফরয ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন কামিল মুর্শিদের নিকট বাইয়াত না হবে। তাই বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয। ১৩। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারীতে উল্লেখ আছে যে, “যে কাজ বা আমল ব্যতীত ফরযসমূহ আদায় করা সম্ভব হয়না, উক্ত ফরযগুলোকে আদায় করার জন্য সে কাজ বা আমল করাও ফরয”। ১৪। হানাফী মায্হাবের মশহুর ফিক্বাহর কিতাব “দুররুল মুখ্তারে উল্লেখ আছে, “যে আমল ব্যতীত কোন ফরয পূর্ণ হয়না; উক্ত ফরয পূর্ণ করার জন্য ঐ আমল করাটাও ফরয”। উল্লিখিত উছুলের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে এটিই প্রমাণিত হয় যে, ফরয পরিমাণ ইল্মে তাছাউফ যেহেতু অর্জন করা ফরয, আর তা যেহেতু কামিল মুর্শিদ বা পীর সাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, সেহেতু একজন কামিল মুর্শিদ অর্থাৎ যিনি সর্বদা আল্লাহ্ পাক (সাঃ)’র যিকিরে মশগুল, তিঁনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয। ১৫। সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত্ ত্বায়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আরো অনেকেই বলেন যে, “যার কোন পীর বা মুর্শিদ নেই তার মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক হলো শয়তান”। (ক্বওলুল জামীল, নুরুন আলা নূর, তাছাউফ তত্ত্ব)। ১৬। হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন শিক্ষা করছ, তাকে দেখে নাও”। (মুসলিম শরীফ)। তাই, ইসলাম কখনও বলে না যে তোমরা কোন ওলী-আল্লাহর কাছে যেও না, বরং তাঁহাদের কাছে যাওয়ার জন্যই নির্দেশ করা হয়েছে। ১৭। আল্লাহ পাক বলেন, “যদি তোমরা না জান, তবে আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালাগণকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও”। (সূরা নহল-৪৩ ও সূরা আম্বিয়া-৭ আয়াত)।
শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৩
আল্লাহর ওলিরা মানুষকে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর জগতে ফেরান
: সেলিম ভান্ডারী :
যুগে যুগে কালে কালে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বন্ধুরুপে প্রেরণ করিয়াছেন নবী-রাসুল ও ওলি-আউলিয়াগনকে। যাঁরা আদি থেকে এ পর্যন্ত শুধু মানুষকে পাপ পঙ্কিলতা অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর জগতে ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছেন। আল্লাহর প্রতিনিধি হলেন নবী-রাসুলগন আর নবী-রাসুল গণের প্রতিনিধি হলেন ওলি-আউলিয়াগন। আমরা এ পর্যন্ত জেনে এসেছি ওলি শব্দের অর্থ- আল্লাহর বন্ধু। এ ছাড়াও ওলি-আউলিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে পীরে কেবলা মুর্শিদে কামেল হযরত শাহ্ সূফী গাউসুল আজম বাবাজান কামাল- ডাঃ নূরুজ্জামান মাইজ ভান্ডারী(কেঃ কাঃ) জানান, ওলি অর্থ- নূর বা আলো। কারণ ওলিরা হলেন প্রদত্ত আলো স্বরুপ। যাঁদের মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা আলো রুপেই দুনিয়াতে প্রেরণ করিয়াছেন আঁধারকে দুরীকরণের জন্যে। এ ছাড়াও আল্লাহর নূরে নূরান্বিত হয়েই কামালিয়াত বা ওলিত্ব অর্জন হয়। বিধায় নূর শব্দের অর্থই হলো আলো। আর যাঁরা এই আলোয় আলোকিত হয়ে দুনিয়াতে এসেছেন তাঁদের আলোর ছোঁয়ায় অনেক অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষ আলোর পথে ফিরেছেন। আওলিয়া শব্দটি ওলি শব্দের বহুবচন। ওলি একবচন আর আওলিয়া বহুবচন।
পবিত্র কোরআণ মাজিদে ১০ নং সূরা ইউনুস ৬২-৬৩ আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন বলেছেন- “আলা ইন্না আওলিয়া আল্লাহি লা খাওফুন আ’লাইহিম ওয়া লাহুম ইয়াহ্ঝানুন। আল্লাযীনা আ’মানূ ওয়া কানূ ইয়াত্তাকানূন”। জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওলিদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। এ ছাড়াও ৩ নং সূরা আল্ ইমরান ৬৮ নং আয়াতে বলোছেন- “ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মু’মিনীন”- আর আল্লাহ্ মু’মিনদের অভিভাবক। ৪৫ নং সূরা জাসিয়া ১৯ নং আয়াতে বলেছেন- “ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মুত্তাকীন”- আর আল্লাহ্ মুত্তাকীদের বন্ধু।
মানুষ যখন আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনেন তখন আল্লাহ্তা’লা মু’মিনদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন অর্থাৎ মু’মিনদের অভিভাবক হয়ে যান। এই বান্দাই যখন আল্লাহ্র বন্দেগীতে নিবেদিত প্রাণ হয়ে তাকওয়ার অধিকারী হন তখন আল্লাহ্তা’লা তার বন্ধু হয়ে যান
আল্লাহ্র ওলি- আউলিয়া সকল দেশের সকল মানুষের কাছে খুবই পরিচিত দুটি শব্দ। আমাদের দেশেও এ কথাটি বেশ প্রচলিত আছে যে, অমুকে আল্লাহ্র ওলি বা অমুক আল্লাহ্র ওলি। এই আল্লাহ্র ওলিদের সম্পর্কে আমাদের মধ্যে অনেকের ধারণা তারা কোন না কোনভাবে অতি প্রাকৃতিক কোন মতার অধিকারী। যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’য়ালা পৃথিবীতে অনেক মুজেজা দেখিয়েছেন। যাঁর মাধ্যমে তাঁরা অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন। আবার অনেকেই মনে করেন আল্লাহ্তা’য়ালা তাদেরকে কোন বিশেষ মতার অধিকারী করে দিয়েছেন, যে মতার বলে অতি প্রাকৃতিকভাবে যে কোন মানুষের মঙ্গল সাধন তারা করতে পারেন, যদি তারা ইচ্ছা করেন। এদেশে সাধারনতঃ পীর দাবীদার শ্রেণীটির মধ্যে আল্লাহ্র ওলি কথাটির প্রচলন বেশি দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে আবার আরেকটু বেশি মর্যাদা সম্পন্ন হবেন হয়তো, তাই তারা বলেন ওলিয়ে কামেল অর্থাৎ পরিপূর্ণ ওলি। এর বাস্তব উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় আমাদের এই ভু-খন্ডে ৩৬০ জন ওলির পদার্পণ ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হযরত শাহ্জালাল (রঃ), হযরত শাহ্ পরাণ (রঃ), হযরত শাহ্ মাকদুম (রঃ), হযরত শাহ্ দৌলা (রঃ), হযরত বায়েজীত বোস্তামী (রঃ), হযরত শাহ্ এনায়েত পুরী (রঃ), সৈয়দ আহাম্মদ আলী মাইজ ভান্ডারী (রহঃ) আরও শত শত ওলি-আউলিয়ার অবস্থান রয়েছে এই বাংলাদেশে। নয়া জামানার আউলিয়ায়ে সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজ ভান্ডারী(রঃ), হযরত বাবা কামাল উদ্দিন মাইজ ভান্ডারী(রঃ) সহ আরও অনেকে।
বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩
কামেল ওলীর অনুগ্রহ লাভে ধন্য হবার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
বাবা ভান্ডারী ডটকম :: প্রকৃতপক্ষে, খোদার দিদার ও ওলীর ছোহবত লাভে ধন্য হতে হলে একজন খোদাপাগল কামেল পীরের হাতে বায়াত গ্রহণ করতে হবে। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, সকল অবস্থায় কামেল পীরকে স্মরণ রাখতে হবে। কামেল পীরের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে সকল অবস্থায় মিথ্যাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে হবে। হারাম খাদ্য ভক্ষণ ও অবৈধ রুচি চিরতরে বর্জন করতে হবে। হালার রুজির তালাশ করতে হবে। কারো প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ ইত্যাদি পোষণ করা কিংবা ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপব্যয়কে বর্জন করতে হবে এবং কার্পণ্য করা চলবে না। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্যকে সমূলে পরিত্যাগ করতে হবে। মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে হবে এবং মৃত্যুকে নিকটবর্তী জানতে হবে। মাতা-পিতার ভালবাসা অর্জন করতে হবে। প্রতিদিন রাত্রে শয়নের প্রাক্কালে আত্ম-সমালোচনা করতে হবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য ‘তওবা’ করতে হবে। সকল প্রকার লোভকে হারাম করতে হবে।
পরমুখাপেক্ষীতা বর্জন করতে হবে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে।
সকল বিপদে আপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং খোদার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে
হবে। পূরণ করা যাবে না এরূপ প্রতিশ্রুতি দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
সত্যিকারের জ্ঞাণ আহরণ করতে হবে এবং গোঁড়ামীর উর্ধ্বে উঠতে হবে। ন্যায়ের
প্রতি দৃঢ় থাকতে হবে। খোদার খানের কাছে নিজের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণরূপে
বিলীন করে দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে “ঐ ব্যক্তিই সফলকাম যার জ্ঞান বিশ্বাস
পর্যন্ত, বিশ্বাস আল্লাহর ভয় ভীতি পর্যন্ত এবং আল্লাহর ভয় আমল পর্যন্ত, আমল
পরহেজগারী পর্যন্ত, পরহেজগারী খোদার নৈকট্য লাভ পর্যন্ত এবং খোদার নৈকট্য
লাভ প্রত্যক্ষ দর্শন পর্যন্ত” {হযরত জোনায়েদী বাগদাদী (রঃ)}। হযরত
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “যে নিজেকে চিনেছে, নিশ্চয়ই সে খোদাকে চিনেছে”।
সুতরাং প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য হলো কামেল ওলীকে পীর ধরা, তাঁর আদেশ উপদেশ
মেনে চলা এবং মৃত্যুর কথা স্মরণপূর্বক মুরশিদের সাহচর্যে থেকে এবাদত,
রেয়াজত, জিকির, মোরাকেবা, মোশাহেদা করা, তজকিয়ায়ে নফছ ও তজকিয়ায়ে কলব হাসেল
করতঃ খোদা প্রাপ্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। কারণ ‘এছলাহে নফছ’ বা নফছের
সংশোধনপূর্বক ‘হুজুরী’ কলব হাসেল করতঃ আল্লাহতালার সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভ
করাই প্রত্যেক মানুষের একান্ত কর্তব্য।
আজ মূল্যবোধের অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। ইহার পরিণাম অতীব ভয়াবহ।
অপ্রয়োজনীয় ও কুরুচিপূর্ণ ভূষণকে ফ্যাশন মনে করে চরিত্র বিনষ্টকারী আমোদ
প্রমোদ এবং স্বাস্থ্য হানিকর পানীয়তে অভ্যস্থ হয়ে সমাজের এক বৃহৎ অংশ আজ
কলুষিত। এ সকল নোংরা আচার ব্যবহার ও রীতিনীতির ফলে মানুষের কোমল মন বিলুপ্ত
হয়ে মানবমন কঠোর ও নিষ্ঠুর হয়ে পড়ে এবং পশু সুলভ কামনা বাসনায় পরিপূর্ণ
হয়ে যায়। তাই একটি সুখী সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের জন্য অনন্ত শান্তির ফোয়ারা
হযরত রসূল করিম (সঃ)-এর সুন্নাহর অনুসরণকারী কামেল ওলীর ছোহবত ও সান্নিধ্য
একন্ত প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে, ধর্ম হচ্ছে শরীয়ত, তরিকত, হাকীকত ও মারফতের
একটি সমন্বিত রূপ। মারফত হচ্ছে একটি অনন্য মহাসাগর। এ মহাসাগরে ডুব দিতে
হলে অন্তর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং প্রেম ও ভক্তির রসে সিক্ত করতে হবে।
শরীয়ত, তরিকত ও হাকিকতকে মহাসাগর মুখী সাগরের সাথে তুলনা করা যায়। মারফতের
মহাসাগরে পৌছতে হলে সমূদ্রগুলোকে প্রেম ও ভক্তির বারিধারা দিয়ে পরিপূর্ণ
রাখতে হবে। অন্তর পরিচ্ছন্ন না হলে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ভক্তি আসবে না।
আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ভক্তি না থাকলে ঈমান হবে অসার, নামায হবে ব্যায়াম,
রোজা হবে নিছক উপবাস, হজ্জ্ব হবে বিদেশ ভ্রমণ, যাকাত হবে অহংকারের নিদর্শন
এবং বিদ্যা হবে নারীদের অলঙ্কারের ন্যায় অনুৎপাদনশীল। মনে যদি পবিত্র
প্রেমের স্পর্শ না থাকে, উহা যদি কুটিলতা ও শঠামিতে পরিপূর্ণ থাকে তাহলে ঐ
মানুষকে দোযখে টেনে নেবে। আল্লাহ আমাদের ভন্ড ও কপ পরিচয়ধারীদের হাত থেকে
রক্ষা করুন এবং সুফী দর্শনের সত্যিকার ভাবধারায় উজ্জ্বীবিত হবার তওফিক দিন।
আমিন!
মনসুর হেল্লাজ:রাষ্ট্র ও ধর্মের হাতে নিহত সূফী
বাবা ভান্ডারী ডটকম ::রহস্যময়তা নয়, আমাকে টানে রহস্যের পেছনের মানুষগুলো । মনসুর হেল্লাজ(858-913 খ্রী:) আমাকে টানে সেই প্রথম কৈশোর থেকে । মনসুরের দর্শন ব্যখ্যা আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নয় । হয়তো সাদিক বিস্তারিত লিখবে কোনোদিন । আমি শুধু লিখতে চাইছি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ধর্মকি করে রেহাই দেয়নি একজন সূফীকে ও শুধু তার ভিন্নমতের জন্য ।
আমরা কি খুব সামনে এগিয়ে এসেছি সেই দু:সময় থেকে?
]
………………………………………………………………………….
মনসুর হেল্লাজের আধ্যাতি্নক শিক্ষা পূর্নতা পেয়েছিল বাগদাদে এবং সে সময়ের প্রধান ধমীর্য়পুরুষ হযরত জোনায়েদ-আল-বাগদাদীর সানি্নধ্যে ।
সে সময়ে মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন আব্বাসীয় খলিফাগন ।
আধ্যাতি্নক পুরুষ হিসেবে মনসুর অনন্য ছিলেন তার প্রকাশ ভংগীমায় ।অন্যান্য সুফী-দরবেশগন যেখানে ধর্মের গুঢ় তত্ব সাধারন মানুষের সাথে আলোচনা করতেননা,নিজেদের রহস্যময়তার ভেতর রাখতেন,সেখানে মনসুর ছিলেন বিপরীত । মনসুর মারফতের সব জটিল ও অলৌকিক ব্যপারগুলো খোলামেলা আলোচনা করতেন সাধারন মানুষের সাথে । অন্য ান্য ধমর্ীয় স্কলার দের চেয়ে বরং সাধারন মানুষের সাথে তিনি আল্লাহ ও তার প্রেমময়তা নিয়ে কথা বলতেন বেশী ।
বাগদাদের রাস্তায় রাস্তায় তিনি বলে বেড়াতেন:
‘আমি তোমাকে খুঁজতে গিয়ে আমাকে ফিরে পাই। এতো নিকটে তুমি যে আমি আমার থেকে তোমাকে আলাদা করতে পারিনা’
‘আমার অন্তরাত্না মিশে গেছে তোমার মাঝে,খুব সনি্নকটে অথচ অনেক দূরে…যেন তুমিই আমি যেমন আমি হয়ে গেছি তোমার’
এর ফলে মনসুর সাধারন মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠলে ও তৎকালীন অন্য সব ধর্মীয় গুরুগন তার উপর ক্ষেপে উঠেন । তারা মনসুরের বিরুদ্ধে আধ্যাতি্নক রহস্য জনসম্মুখে প্রকাশের অভিযোগ আনেন । এমনকি তার শিক্ষক হযরত জোনায়েদ ও তাকে সতর্ককরে দেন সাধারন মানুষের কাছে সব গোপনীয়তা প্রকাশ না করার জন্য ।
কিন্তু এসব অভিযোগ, সতকর্ীকরন মনসুরকে আটকাতে পারেনি ।
তিনি আবারো বলেন:
‘ আমার অস্তিত্বে তুমি মিশে গেছো যেমন সুরার সাথেজল। যা তোমাকে স্পর্শকরে আমি তার স্পর্শপাই’
এবার শরীয়তি আইনে তাকে খারিজী ঘোষনা করা হয় এবং বাগদাদে অবাঞ্চিত করা হয় ।
মনসুর আল-হেল্লাজ ফিরে যান তার জন্মস্থান ইরানে । সমগ্র ইরান জুড়ে তিনি ছোটে বেড়ান সাধারন মানুষ কে ইসলামের প্রেমময়তা শিক্ষা দেবার জন্য এবং সবখানেই তিনি সাধারন মানুষের ভালোবাসা পান আর শাসক গোষ্ঠী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠা ন গুলোর বিরাগভাজন হন।
এর পর তিনি তার 400 শিষ্য নিয়ে মকক্বা শরীফে যান হজ্ব করার জন্য । সেখানে তাকে যাদুকর ও ভন্ড বলে তিরস্কার করা হয় এবং মকক্বা ন গরীর প্রবেশ দ্্বার বন্ধ করে দেয়া হয় ।
ফিরে এসে মনসুর একা বেরিয়ে পড়েন ছোট্র নৌকা নিয়ে । সাগর পাড়ি দিয়ে আসেন ভারতে । গুজরাট, সিন্ধু হয়ে চলে যান চীন দেশে । সবখানেই তিনি তার স্বভাব অনুযায়ী হাজার হাজার সাধারন মানুষের সাথে মিশেন,কথা বলেন,ধর্মের অপার সৌন্দর্য্য ব্যখ্যা করেন এবং সবখানেই তিনি ব্যাপকভাবে আদৃত হন।
মনসুর আবার ফিরে আসেন বাগদাদে । আবারো বাগদাদের সাধারন মানুষের সাথে শুরু হয় তার ভাবনা বিনিময় ।
তিনি সবাইকে বলেন:
‘যদি নিজেকে বিযুক্ত করা যায় সবকিছু থেকে তাহলে পৌঁছে যাওয়া যায় সেই অলৌকিকতায় যেখানে কিছুই বিযুক্ত নয় আর, কিছুই নয় সম্পৃক্ত’
এক পর্যায়ে মনসুর উচ্চারন করেন তার সবথেকে ভয়ংকর অথচ সুন্দর শব্দগুচ্ছ —
‘ আনাল হক’ ।
‘আমিই সত্য’ ।
তার এই উচ্চারনে কেঁপে উঠে বাগদাদ তথা সমস্ত মুসলিম বিশ্ব। বলা হয় মনসুর নিজেকে আল্লাহ ঘোষনা করেছেন যেহেতু ‘ হক’ আল্লাহর 99 নামের একটা । মনসুরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন ‘ আল্লাহ সবখানে এবং সবকিছুতেই । আল্লাহ আমার মাঝে ও । তাই আমি ই সত্য’
কিন্তু প্রথা গত ধর্মব্যবসথা তার ব্যখ্যায় খুশি হয়নি । এবার শরীয়া আইনে তাকে কাফের ঘোষনা করে বন্দী করা হয় ।
বন্দী হবার প্রথম দিন মনসুর জেলখানা থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, দ্্বিতীয় দিন তাকে স হ পুরো জেলখানাই অদৃশ্য হয়ে যায়, তৃতীয় দিন আবার দৃশ্যমান হন তিনি এবং জেলখানা । এ ঘটনায় সমস্ত বাগদাদ জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান ধমর্ীয় পুরুষ গন ছুটে যান তার কাছে ।
তিনি ঘটনার ব্যখ্যা দেন এভাবে:
‘প্রথম দিন আমি চলে গিয়েছিলাম মহানবী(র:) কাছে, দ্্বিতীয় দিন মহানবী(র:) এসেছিলেন আমাকে দেখতে, তৃতীয় দিন আমি ফিরে এসেছি তার নির্দেশে শরীয়তকে সম্মান জানাতে’
ঐ জেলে সে সময় তিনশো বন্দি ছিলো । মনসুর তাদের বলেন ‘ তোমরা কি মুক্তি চাও?’ তারা পালটা প্রশ্ন করে ‘ওহে মনসুর ক্ষমতা থাকলে তুমি নিজেই মুক্ত হওনা কেন?’ তিনি জবাব না দিয়ে তাদের শিকলগুলোর দিকে চোখ মেলে তাকান । শিকল সব ভেং গে পড়ে । তিনি জেলখানার প্রধান ফটকের দিকে দৃষ্টি দেন । ফটক খুলে যায় । সব বন্দি বেরিয়ে যায় ।
পরদিন সকালে বিস্মিত ন গর বাসী একা মনসুরকে বসে থাকতে দেখে জেলখানায় । তাদের প্রশ্নের উত্তরে এবার তিনি বলেন ” আমি আমার প্রভূর দেয়া শাস্তির অপেক্ষা করছি’
বন্দি মুক্তির ঘটনা শোনার সাথে সাথে আব্বাসীয় খলিফা তাকে 300 দোররা এব ং ফাঁসীর নির্দেশ দেন ।
শরীয়া আইন অনুযায় ী বাগদাদের তৎকালীন কাজি খলিফার এই নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেন । পরিহাস এই, সে সময় বাগদাদের কাজী ছিলেন মনসুরেরই আধ্যাতি্নক শিক্ষক হযরত জোনায়েদ । হযরত জোনায়েদ নির্দেশ নামায় স্বাক্ষর দিয়ে বলেন ‘ইসলামী আইন অনুযায়ী সে দোষী কিন্তু আসল সত্য তো এক আল্লাহই জানেন’
মনসুর কে জনসম্মুখে 300 দোররা মারা হয় ।
মনসুর অবিচল,ভাবেলশহীন । হাজার হাজার সাধারন মানুষ বিস্ময় ভূলে চিৎকার দিয়ে উঠে ‘আনাল হক’ আনাল হক’
রক্তাক্ত মনসুরকে একজন প্রশ্ন করে ‘ ও মনসুর ইশক কি?’ মনসুর বলেন ‘ তোমরা ইশক দেখবে আগামী কাল ও তার পরদিন ‘
হাজর হাজার জনতার চিৎকারের মধ্য দিয়ে মনসুর কে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসীর মঞ্চে ।
না মনসুরের মরদেহ কবর দেয়া হয়নি । শরীয়া আইনে ঘোষিত কাফের মনসুরের দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ছাই ভাসিয়ে দেয়া হয় টাইগ্রীস নদীতে পরদিন ।
মনসুরের ছাই ভাসানোর সাথে সাথে ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে টাইগ্রীসের পানি । বাগদাদের সবাই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে ‘ এ বোঝি তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ’
পরদিন যখন টাইগ্রীসের পানি প্রায় ঢুকে পড়ছে শ হরের ভেতরে তখনই মনসুরের এ কজন শিষ্য মনসুরের ব্যবহৃত চামড়ার থলেটি ছুঁড়ে ফেলেন সেই পানিতে এবং সবাইকে আবারো বিস্মিত করে পানি ফিরে যায় টাইগ্রীসে ।
পরে সেই শিষ্য অন্যদের বলেন যে মনসুর তার মৃতু্যর আগেই এই থলেটি তার কাছে রেখে এরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন ।
ইসলামিক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ইসলামিক আইন দৈহিকভাবে মনসুরকে হত্যা করলে ও 1000 বছর থেক মনসুর হেল্লাজ প্রেরনার উৎস হয়ে আছেন মরমী সূফি, স হজিয়া বাউল ও সাধারন মানুষের কাছে ।
]
………………………………………………………………………….
মনসুর হেল্লাজের আধ্যাতি্নক শিক্ষা পূর্নতা পেয়েছিল বাগদাদে এবং সে সময়ের প্রধান ধমীর্য়পুরুষ হযরত জোনায়েদ-আল-বাগদাদীর সানি্নধ্যে ।
সে সময়ে মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন আব্বাসীয় খলিফাগন ।
আধ্যাতি্নক পুরুষ হিসেবে মনসুর অনন্য ছিলেন তার প্রকাশ ভংগীমায় ।অন্যান্য সুফী-দরবেশগন যেখানে ধর্মের গুঢ় তত্ব সাধারন মানুষের সাথে আলোচনা করতেননা,নিজেদের রহস্যময়তার ভেতর রাখতেন,সেখানে মনসুর ছিলেন বিপরীত । মনসুর মারফতের সব জটিল ও অলৌকিক ব্যপারগুলো খোলামেলা আলোচনা করতেন সাধারন মানুষের সাথে । অন্য ান্য ধমর্ীয় স্কলার দের চেয়ে বরং সাধারন মানুষের সাথে তিনি আল্লাহ ও তার প্রেমময়তা নিয়ে কথা বলতেন বেশী ।
বাগদাদের রাস্তায় রাস্তায় তিনি বলে বেড়াতেন:
‘আমি তোমাকে খুঁজতে গিয়ে আমাকে ফিরে পাই। এতো নিকটে তুমি যে আমি আমার থেকে তোমাকে আলাদা করতে পারিনা’
‘আমার অন্তরাত্না মিশে গেছে তোমার মাঝে,খুব সনি্নকটে অথচ অনেক দূরে…যেন তুমিই আমি যেমন আমি হয়ে গেছি তোমার’
এর ফলে মনসুর সাধারন মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠলে ও তৎকালীন অন্য সব ধর্মীয় গুরুগন তার উপর ক্ষেপে উঠেন । তারা মনসুরের বিরুদ্ধে আধ্যাতি্নক রহস্য জনসম্মুখে প্রকাশের অভিযোগ আনেন । এমনকি তার শিক্ষক হযরত জোনায়েদ ও তাকে সতর্ককরে দেন সাধারন মানুষের কাছে সব গোপনীয়তা প্রকাশ না করার জন্য ।
কিন্তু এসব অভিযোগ, সতকর্ীকরন মনসুরকে আটকাতে পারেনি ।
তিনি আবারো বলেন:
‘ আমার অস্তিত্বে তুমি মিশে গেছো যেমন সুরার সাথেজল। যা তোমাকে স্পর্শকরে আমি তার স্পর্শপাই’
এবার শরীয়তি আইনে তাকে খারিজী ঘোষনা করা হয় এবং বাগদাদে অবাঞ্চিত করা হয় ।
মনসুর আল-হেল্লাজ ফিরে যান তার জন্মস্থান ইরানে । সমগ্র ইরান জুড়ে তিনি ছোটে বেড়ান সাধারন মানুষ কে ইসলামের প্রেমময়তা শিক্ষা দেবার জন্য এবং সবখানেই তিনি সাধারন মানুষের ভালোবাসা পান আর শাসক গোষ্ঠী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠা ন গুলোর বিরাগভাজন হন।
এর পর তিনি তার 400 শিষ্য নিয়ে মকক্বা শরীফে যান হজ্ব করার জন্য । সেখানে তাকে যাদুকর ও ভন্ড বলে তিরস্কার করা হয় এবং মকক্বা ন গরীর প্রবেশ দ্্বার বন্ধ করে দেয়া হয় ।
ফিরে এসে মনসুর একা বেরিয়ে পড়েন ছোট্র নৌকা নিয়ে । সাগর পাড়ি দিয়ে আসেন ভারতে । গুজরাট, সিন্ধু হয়ে চলে যান চীন দেশে । সবখানেই তিনি তার স্বভাব অনুযায়ী হাজার হাজার সাধারন মানুষের সাথে মিশেন,কথা বলেন,ধর্মের অপার সৌন্দর্য্য ব্যখ্যা করেন এবং সবখানেই তিনি ব্যাপকভাবে আদৃত হন।
মনসুর আবার ফিরে আসেন বাগদাদে । আবারো বাগদাদের সাধারন মানুষের সাথে শুরু হয় তার ভাবনা বিনিময় ।
তিনি সবাইকে বলেন:
‘যদি নিজেকে বিযুক্ত করা যায় সবকিছু থেকে তাহলে পৌঁছে যাওয়া যায় সেই অলৌকিকতায় যেখানে কিছুই বিযুক্ত নয় আর, কিছুই নয় সম্পৃক্ত’
এক পর্যায়ে মনসুর উচ্চারন করেন তার সবথেকে ভয়ংকর অথচ সুন্দর শব্দগুচ্ছ —
‘ আনাল হক’ ।
‘আমিই সত্য’ ।
তার এই উচ্চারনে কেঁপে উঠে বাগদাদ তথা সমস্ত মুসলিম বিশ্ব। বলা হয় মনসুর নিজেকে আল্লাহ ঘোষনা করেছেন যেহেতু ‘ হক’ আল্লাহর 99 নামের একটা । মনসুরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন ‘ আল্লাহ সবখানে এবং সবকিছুতেই । আল্লাহ আমার মাঝে ও । তাই আমি ই সত্য’
কিন্তু প্রথা গত ধর্মব্যবসথা তার ব্যখ্যায় খুশি হয়নি । এবার শরীয়া আইনে তাকে কাফের ঘোষনা করে বন্দী করা হয় ।
বন্দী হবার প্রথম দিন মনসুর জেলখানা থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, দ্্বিতীয় দিন তাকে স হ পুরো জেলখানাই অদৃশ্য হয়ে যায়, তৃতীয় দিন আবার দৃশ্যমান হন তিনি এবং জেলখানা । এ ঘটনায় সমস্ত বাগদাদ জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান ধমর্ীয় পুরুষ গন ছুটে যান তার কাছে ।
তিনি ঘটনার ব্যখ্যা দেন এভাবে:
‘প্রথম দিন আমি চলে গিয়েছিলাম মহানবী(র:) কাছে, দ্্বিতীয় দিন মহানবী(র:) এসেছিলেন আমাকে দেখতে, তৃতীয় দিন আমি ফিরে এসেছি তার নির্দেশে শরীয়তকে সম্মান জানাতে’
ঐ জেলে সে সময় তিনশো বন্দি ছিলো । মনসুর তাদের বলেন ‘ তোমরা কি মুক্তি চাও?’ তারা পালটা প্রশ্ন করে ‘ওহে মনসুর ক্ষমতা থাকলে তুমি নিজেই মুক্ত হওনা কেন?’ তিনি জবাব না দিয়ে তাদের শিকলগুলোর দিকে চোখ মেলে তাকান । শিকল সব ভেং গে পড়ে । তিনি জেলখানার প্রধান ফটকের দিকে দৃষ্টি দেন । ফটক খুলে যায় । সব বন্দি বেরিয়ে যায় ।
পরদিন সকালে বিস্মিত ন গর বাসী একা মনসুরকে বসে থাকতে দেখে জেলখানায় । তাদের প্রশ্নের উত্তরে এবার তিনি বলেন ” আমি আমার প্রভূর দেয়া শাস্তির অপেক্ষা করছি’
বন্দি মুক্তির ঘটনা শোনার সাথে সাথে আব্বাসীয় খলিফা তাকে 300 দোররা এব ং ফাঁসীর নির্দেশ দেন ।
শরীয়া আইন অনুযায় ী বাগদাদের তৎকালীন কাজি খলিফার এই নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেন । পরিহাস এই, সে সময় বাগদাদের কাজী ছিলেন মনসুরেরই আধ্যাতি্নক শিক্ষক হযরত জোনায়েদ । হযরত জোনায়েদ নির্দেশ নামায় স্বাক্ষর দিয়ে বলেন ‘ইসলামী আইন অনুযায়ী সে দোষী কিন্তু আসল সত্য তো এক আল্লাহই জানেন’
মনসুর কে জনসম্মুখে 300 দোররা মারা হয় ।
মনসুর অবিচল,ভাবেলশহীন । হাজার হাজার সাধারন মানুষ বিস্ময় ভূলে চিৎকার দিয়ে উঠে ‘আনাল হক’ আনাল হক’
রক্তাক্ত মনসুরকে একজন প্রশ্ন করে ‘ ও মনসুর ইশক কি?’ মনসুর বলেন ‘ তোমরা ইশক দেখবে আগামী কাল ও তার পরদিন ‘
হাজর হাজার জনতার চিৎকারের মধ্য দিয়ে মনসুর কে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসীর মঞ্চে ।
না মনসুরের মরদেহ কবর দেয়া হয়নি । শরীয়া আইনে ঘোষিত কাফের মনসুরের দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ছাই ভাসিয়ে দেয়া হয় টাইগ্রীস নদীতে পরদিন ।
মনসুরের ছাই ভাসানোর সাথে সাথে ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে টাইগ্রীসের পানি । বাগদাদের সবাই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে ‘ এ বোঝি তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ’
পরদিন যখন টাইগ্রীসের পানি প্রায় ঢুকে পড়ছে শ হরের ভেতরে তখনই মনসুরের এ কজন শিষ্য মনসুরের ব্যবহৃত চামড়ার থলেটি ছুঁড়ে ফেলেন সেই পানিতে এবং সবাইকে আবারো বিস্মিত করে পানি ফিরে যায় টাইগ্রীসে ।
পরে সেই শিষ্য অন্যদের বলেন যে মনসুর তার মৃতু্যর আগেই এই থলেটি তার কাছে রেখে এরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন ।
ইসলামিক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ইসলামিক আইন দৈহিকভাবে মনসুরকে হত্যা করলে ও 1000 বছর থেক মনসুর হেল্লাজ প্রেরনার উৎস হয়ে আছেন মরমী সূফি, স হজিয়া বাউল ও সাধারন মানুষের কাছে ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

