তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারী’ আখেরি জামানার খোদাপ্রেমের সর্বশ্রেষ্ঠ তরিকা, যা
বাংলাদেশের মাটি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ফলে ওই তরিকায় ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে
বাঙালি সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব মিল পরিলক্ষিত হয়। এই মহান তরিকার প্রবর্তক
গাউসুল আজম হজরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল মাইজভাণ্ডারী এবং
প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আজম হজরত মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল-মাইজভাণ্ডারী
(ক.)। আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে দুনিয়ার মোহান্ধ মানুষকে কল্যাণ ও মুক্তির
পথ প্রদর্শনের জন্য নবী, রাসুল, গাউস-কুতুব ও অলি-দরবেশদের হাদি বা
পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন। নবী-রাসুল আসা বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু
কিয়ামত পর্যন্ত পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্যের পথে হিদায়াত করতে গাউস-কুতুব, অলি
আল্লাহদের আবির্ভাব জারি থাকবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা
করছেন_’ওয়া মিম্মান খালাক্না উন্মাতু ইঁয়াহদূনা বিল হাক্কি।’ অর্থাৎ, আমার
সৃষ্টির মধ্যে এমন একটি সম্প্রদায় আসবে, যাঁরা পথভ্রষ্ট মানুষকে হিদায়াত
করবে। (সুরা আল-আ’রাফ, আয়াত_১৮)। পবিত্র কোরআনে তিনি আরো ঘোষণা করেন_’লি
কুলি্ল জা’আল্না মিন্কুম সিরাতাওঁ ওয়া মিন্হাজান’ অর্থাৎ, আমি (আল্লাহ)
তোমাদের জন্য একটি সাধারণ পথ (শরিয়ত) এবং অপরটি মিনহাজ (অর্থাৎ, বিশেষ পথ
তথা তরিকত) সৃষ্টি করেছি। (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত_৪৮)
মাইজভাণ্ডারী তরিকা হচ্ছে প্রেমনির্ভর তরিকা। তাই এখানে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে
প্রেমের উচ্ছ্বাসই বেশি পরিলক্ষিত হয়। এই তরিকার অনুসারীরা জাতি-ধর্ম
নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসতে শেখে। তাই তারা মূলত অসাম্প্রদায়িক।
মাইজভাণ্ডারী তরিকায় আনুষ্ঠানিক ইবাদতের প্রভাব কম দেখায় অনেকেই ওই তরিকার
দুই প্রধান পুরুষ হজরত আকদাস (ক.) এবং হজরত বাবা ভাণ্ডারীকে (ক.)
সত্যিকারের অলি হিসেবে মানলেও তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীকে মানতে কেমন যেন উসখুস
ভাব প্রকাশ করেন। এ রকম ধারণা ইলমে তাসাউফ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের অভাবেই
করে থাকেন। প্রেম-বিহ্বল চিত্ত এবং ‘তাসাউর-এ শেখ’ (বা আপন পীর-মুর্শিদের
ধ্যান)-কে ওই তরিকার প্রধান বৈশিষ্ট্য বলা যায়। এই দুটি দিককে আরো গতিময়
করতে সেমা বা আধ্যাত্মিক সংগীত খোদাপ্রেমকে সহস্র গুণে গতিময় করে থাকে।
প্রেমাকর্ষণ ও আধ্যাত্মিক সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা
অত্যন্ত যুগোপযোগী, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত একটি অনন্য উপায় হিসেবে বিবেচিত।
কারণ, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত হিকমতের সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান
করার নির্দেশ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে দিয়েছেন। (সুরা আন-নাহ্ল,
আয়াত_১২৫)। নবী-রাসুলরা তাই যুগোপযোগী শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন। শরিয়তের
বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হলেও উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে সব ধর্ম ছিল এক এবং অভিন্ন।
রাসুল (সা.)-এর জমানায়ও দেখা যায়, তিনি প্রয়োজনে শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন,
আবার প্রয়োজনে স্থগিতও করেছেন। যেমন_একদিন এক লোক এসে বললেন, ‘ইয়া
রাসুলাল্লাহ (সা.), শরিয়তের বিধি-বিধান আমার কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর।
সুতরাং আমাকে একটি সহজ উপায় বলে দিন।’ রাসুল (সা.) তাঁকে বললেন, ‘লা ইয়াজাল
লিসানাকা রতবাম মিন জিক্রুল্লাহি।’ অর্থাৎ, তুমি সব সময় তোমার জিহ্বাকে
আল্লাহর স্মরণে সিক্ত রাখবে। (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়, রাসুল (সা.) ওই লোকটিকে শরিয়তের নির্দেশ পালনে বাধ্য করেননি। যার ফিত্রাত বা স্বভাব যে রকম, তাকে সেভাবেই হিদায়াত করেছেন। এটাই হচ্ছে সুন্দরতম কৌশল এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়। রাসুল (সা.)-এর পর তাঁর পবিত্র বংশজ ইমাম ও গাউস মুজাদ্দিদরা তাঁর যোগ্য স্থলাভিষিক্ত এবং ওয়ারিসাতুল আম্বিয়া হিসেবে যুগোপযোগী বিধান প্রদানের অধিকারী। এ ব্যাপারে তাসাউফের মাশায়েখরা একমত। তাই মাইজভাণ্ডারী তরিকায় বিভিন্ন লোককে বিভিন্ন হিকমতের মাধ্যমে তাদের অন্তরে সুপ্ত খোদাপ্রেমকে জাগিয়ে তুলতে দেখা যায়। অন্তরে খোদাপ্রেম জাগিয়ে তুলতে পারলে সেই প্রেমের অনলে যাবতীয় নাফ্সানিয়াত জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যায়। মাইজভাণ্ডারী তরিকা বাংলার বুকে এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এটা আধ্যাত্মিক সংগীত মোহান্ধ এবং অধঃপতিত মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত একটি ব্যবস্থা। এ পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে লাখ লাখ মানুষ আল্লাহ এবং রাসুল (সা.)-এর প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে সত্যের সন্ধান ও খোদার দিদার লাভে সক্ষম হয়েছে।
মাইজভাণ্ডারী তরিকা পবিত্র ইসলাম ধর্মেরই একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক সংস্করণ। এই তরিকা মূলত প্রেমের তরিকা। সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতা এবং জ্ঞাতি বিদ্বেষের ঊধর্ে্ব উঠে এই তরিকা মানুষকে স্রষ্টাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এই তরিকার মুরিদরা সাধারণত প্রেমিক ধাঁচের হয়ে থাকে এবং সব বৈষয়িক বিষয়বস্তু থেকে স্বীয় মুর্শিদকেই অধিকতর ভালোবেসে থাকে। বর্তমান সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ পৃথিবীতে ধর্মীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় ওই তরিকা এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়, রাসুল (সা.) ওই লোকটিকে শরিয়তের নির্দেশ পালনে বাধ্য করেননি। যার ফিত্রাত বা স্বভাব যে রকম, তাকে সেভাবেই হিদায়াত করেছেন। এটাই হচ্ছে সুন্দরতম কৌশল এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়। রাসুল (সা.)-এর পর তাঁর পবিত্র বংশজ ইমাম ও গাউস মুজাদ্দিদরা তাঁর যোগ্য স্থলাভিষিক্ত এবং ওয়ারিসাতুল আম্বিয়া হিসেবে যুগোপযোগী বিধান প্রদানের অধিকারী। এ ব্যাপারে তাসাউফের মাশায়েখরা একমত। তাই মাইজভাণ্ডারী তরিকায় বিভিন্ন লোককে বিভিন্ন হিকমতের মাধ্যমে তাদের অন্তরে সুপ্ত খোদাপ্রেমকে জাগিয়ে তুলতে দেখা যায়। অন্তরে খোদাপ্রেম জাগিয়ে তুলতে পারলে সেই প্রেমের অনলে যাবতীয় নাফ্সানিয়াত জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যায়। মাইজভাণ্ডারী তরিকা বাংলার বুকে এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এটা আধ্যাত্মিক সংগীত মোহান্ধ এবং অধঃপতিত মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত একটি ব্যবস্থা। এ পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে লাখ লাখ মানুষ আল্লাহ এবং রাসুল (সা.)-এর প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে সত্যের সন্ধান ও খোদার দিদার লাভে সক্ষম হয়েছে।
মাইজভাণ্ডারী তরিকা পবিত্র ইসলাম ধর্মেরই একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক সংস্করণ। এই তরিকা মূলত প্রেমের তরিকা। সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতা এবং জ্ঞাতি বিদ্বেষের ঊধর্ে্ব উঠে এই তরিকা মানুষকে স্রষ্টাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এই তরিকার মুরিদরা সাধারণত প্রেমিক ধাঁচের হয়ে থাকে এবং সব বৈষয়িক বিষয়বস্তু থেকে স্বীয় মুর্শিদকেই অধিকতর ভালোবেসে থাকে। বর্তমান সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ পৃথিবীতে ধর্মীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় ওই তরিকা এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন