শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৩

প্রত্যেক মানব জাতির জন্য হক্কানি পীরের হাতে বায়াত গ্রহণ অপরিহার্য

: সেলিম ভান্ডারী :  মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেনÑ নিশ্চয়ই যারা আপনার হাতে বায়াত করছে; নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর হাতে বায়াত করছে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। সুতরাং, তারা যদি এটা ভঙ্গ করে, তবে তারা স্বীয় জীবনের ওপর তা ভঙ্গ করে এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা রক্ষা করেছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের দেবেন অতি মহান পুরস্কার। (সূরা ফাতহ-১০আয়াত)। সুতরাং নিজের জীবন গঠনে আল্লাহ প্রাপ্তির সহজ উপায় হিসেবে তরিকতের পীর ও হক্কানি উস্তাদের হাতে বায়াত গ্রহণ করা অপরিহার্য। এ বিষয়ে মুসলিম শরীফে রয়েছে ‘যে ব্যক্তি বায়াত এর বন্ধন, সংঘ ও নেতার প্রতি আনুগত্যের শপথ ছাড়া মারা গেল, সে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের মৃত্য বরণ করল’। এছাড়াও বায়াত হওয়া মানে অন্যতম মানুষ হবার একটি প্রধান রাস্তা। শুধু তাই নয়, সকল মানুষের বায়াত হওয়া অবশ্যই ফরজ। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বায়াত হওয়াটা কি আসলেই ফরজ? তার আগে আমাদের বোঝতে হবে বায়াত বলতে কি বুঝায়? ইসলামের মূল ৫টি ভিত্তি হলো : ১। নামাজ, ২। রোজা, ৩। হজ্ব, ৪। যাকাত, ৫। কলেমা। এই ৫টি ভিত্তি ছাড়াও আগে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ‘ঈমান’। ইসলাম ধর্ম মতে প্রথম কাজ হলো ঈমান আনা, অর্থাৎ আল্লাহ্ এক তাঁর কোন শরিক নাই, মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, ফেরেস্তায় ও আখেরাতে বিশ্বাস স্থাপনই হলো ঈমান। ঈমান ছাড়া আপনি মুসলমান হতে পারবেন না। ঈমানের সমার্থক শব্দ হলো প্রক্ষান্তরে বায়াত, নবীজী ( সাঃ ) -এর যুগে সকলে নবীজী (সাঃ) এর নিকট বায়াত হয়েছেন, এখন নবীজী (সাঃ) নাই, কিন্তূ ‘উলিল আমর’ আছেন, একজন উলিল আমর হচ্ছেন- স্রষ্টার প্রতিনিধি, যাদের আমরা পীর-মুর্শিদ নামে জানি। কেউ যখন কোন পীর-মুর্শিদের হাতে হাত রেখে বায়াত হন, তখন তিনি সরাসরি স্রষ্টার হাতেই হাত রেখে বায়াত হন। বায়াত হচ্ছে ঈমানের মূল বিষয় গুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা, ঈমানের মূল বিষয় গুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপনের শপথ নেওয়া। এ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রভূর নিকট নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে সমর্পণ করা। ঈমানের পূর্ণ আনুগত্য করাই হলো বায়াত। বিশ্বাসে যদি ফাঁক থাকে তবে কোন কাজেই উন্নতি সম্ভব নয়। "বায়াত" নিয়ে আমাদের আরও বিশদ আলোচনার দরকার। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশেষ নবী বা রাসুল। মহান আল্লাহ আদম জাতি সৃষ্টি করার পর তাদের হেদায়েত এর জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন নবী বা রাসুল প্রেরণ করেছেন। যেহেতু আমাদের নবী ছিলেন সর্বশেষ, তাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না বা আসার প্রয়োজনও নাই, কেননা আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য জীবন বিধান পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তা ছাড়া, আমরাই হলাম সর্বশেষ নবী'র সর্বশেষ উম্মত। আসলে ইসলামের দৃষ্টিতে বায়াত হচ্ছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শপথ। কোন অজুহাত না দেখিয়ে হুকুম পালন করা। রাসুল (সাঃ) এর সময় যারা অজুহাত দেখাতো তাদের মুনাফিক বলা হতো। আসলে বায়াত হচ্ছে নিজেকে স্রষ্টার পুরোপুরি সমর্পণের আনুষ্ঠানিক ও অলঙ্ঘনীয় স্বীকৃতি ও শপথ। ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পুরোপুরি সমর্পিত (বায়াত) না হয়ে মারা যেও না।’-(আল ইমরান: ১০২ আয়াত)। বায়াতের মাধ্যমে গঠিত হয় সৎসঙ্ঘ। পবিত্র কোরাআনের দৃষ্টিতে সৎসঙ্ঘে সঙ্ঘবদ্ধ থাকা এবং নেতার নির্দেশ অনুসরণ করাও ফরজ। বিদায় হজে নবীজী (সাঃ) পাঁচটি কাজের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিঁনি বলেছেন-‘ নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রোজা রাখবে, হজ করবে আর সঙ্ঘবদ্ধভাবে নেতাকে অনুসরণ করবে ( এখানে বায়াতের কথা বুঝিয়েছেন), তা হলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।’ আশা করি উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারবেন -“বায়াত হওয়া কি ফরজ, না কি ফরজ না?” " বায়আ'ৎ"- আরবী শব্দটি আভিধানিক দৃষ্টিতে 'বাইউন" শব্দের অনুরূপ, যাহার অর্থ বিক্রয় করা। বিক্রয় ক্ষেত্রে ক্রয়ও হয়। এক পক্ষ হইতে বিক্রয় অপর পক্ষ হইতে ক্রয়। উভয়ের কার্যকে আরবীতে "মোবায়াআ'ৎ" বলা হয়। ইসলামের পরিভাষায় "বায়আ'ৎ" বলা হয়। কোন মহানের হস্ত ধারণ করিয়া বিশেষ প্রতিজ্ঞা বা অঙ্গীকারের উপর দীক্ষা গ্রহণ করা। এই ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ। হস্ত ধারণকারী, অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞাকারী, অপর পক্ষ হলো যাহার হস্ত ধারণ করা হয়, যার কাছে অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞা করা হয়। এই ক্ষেত্রেও উভয়ের কাজ "মোবায়াআ'ৎ" বলা হয়। ক্রিয়াপদও ঐরূপ হইবে। ইসলামে যে বায়াত হয় সেই বায়াত কোনো মহান মানুষের হস্তেই ধারণ করা হয়। যেমন: সাহাবীগণ নবীজীর হস্ত ধারণ করিতেন এবং তদ্রুপ কোনো পীর বুজুর্গের হস্ত ধারণ করা হয়। কিন্তু ইসলামের বায়াতকে কঠোরতর সাব্যস্তকরন উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআন স্পষ্ট বলা হইয়াছে যে, এই বায়াতে যদিও কোনো মানুষের হস্তধারণ করা হয়, কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহ্র হস্ত ধারণ গণ্য করিবে। (বুখারী শরীফ হইতে উদ্ধৃত)। আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, "তোমরা আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের এবং প্রাজ্ঞ নেতার আনুগত্য কর"। এখন তো রাসুল (সাঃ) আমাদের মাঝে নেই তাই আমাদেরকে প্রাজ্ঞ নেতার আনুগত্য করতে হবে। আর এটিই হল বায়াত এবং এটি অত্যন্ত জরুরী। যেমন সাহাবায়ে কেরামরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেছেন। এর পরবর্তীরা সাহাবায়ে কেরামদের কাছে। এবং এর পরবর্তীরা তাবেয়ীন, তাবঈ-তাবেয়ীনিদের কাছে। এভাবে ওস্তাদ শিষ্য বা পীর মুর্শিদের মাধ্যমে বায়াতের সিলসিলা আজো প্রচলিত আছে। তবে মাঝখানে এসে এর থেকে বেশ কিছু ধারা বেরিয়েছে। যেমন- কাদরিয়া, চিশতিয়া, মোজাদ্দেদিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া, নকশবন্দিয়া ইত্যাদি। ১। কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি এরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত মুহসিন বা আল্লাহওয়ালাগণদের নিকটে।” (সূরা আ’রাফ : আয়াত শরীফ ৫৬)। ২। পবিত্র কুরআন শরীফ এ উল্লেখ রয়েছে, কামিল মুর্শিদের গুরুত্ব সম্পর্কে কালামুল্লাহ শরীফ-এ এরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক যাঁকে হিদায়েত দান করেন, সেই হিদায়েত পায়। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, সে কোন ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল শায়খ বা পীর) উনার ছোহবত লাভ করতে পারে না। (সূরা কাহাফ - ১৭) । ৩। আল্লাহ পাক বলেন, “তোমরা সব আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও”। (সূরা ইমরান-৭৯)। ৪। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালাম পাক-এ এরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাককে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণের সঙ্গী হও।” (সূরা তওবা- ১১৯ আয়াত) এখানে ছাদিক্বীন বলতে ওলী-আল্লাহ গণকেই বুঝান হয়েছে। ৫। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে আরো বলেন, “আল্লাহ পাক এর রাসুলের ইত্বায়াত কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা (উলিল আমর) আদেশদাতা, তাদের অনুসরণ কর”। ৬। আল্লাহ পাক বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমাকে পাওয়ার জন্য উসিলা তালাশ কর”। ৭। পবিত্র কুরআন শরীফ আরো উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “আপনি নিজেকে উনাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যাঁরা সকাল-সন্ধ্যায় উনাদের রবকে ডাকে উনার সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য ক্বলবী যিকির করেন, তিঁনার অনুসরণ ও ছোহ্বত (সাক্ষাত) এখতিয়ার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।” (সূরা কাহাফ- ২৮)। ৮। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়ছে, “হুযুর পাক (সাঃ) বলেন, আদম সন্তানের শরীরে এক টুকরা গোস্ত আছে যদি সেটা শুদ্ধ হয়ে যায় তবে সমস্ত শরীর শুদ্ধ হয়ে যায়। আর যদি সেটা অশুদ্ধ হয় তাহলে সমস্ত শরীর অশুদ্ধ হয়ে যায়, সাবধান ওটা হচ্ছে ক্বলব”। (বুখারী শরীফ)। ৯। মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “যার ক্বলবে আমার যিকির জারি নেই সে নফসের অনুসরণ করে এবং তার আমলগুলো হয় শরীয়তের খিলাফ”। ১০। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেন, “সাবধান! আল্লাহ পাকের যিকির দ্বারা দিল ইতমিনান হয়”। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শয়তান আদম সন্তানের কলবের উপর বসে, যখন আল্লাহ পাকের যিকির করে তখন পালিয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ পাকের যিকির থেকে গাফিল হয় তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়”। ১১। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক (সাঃ) হাদীছ শরীফ-এ এরশাদ করেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য (জরুরীত আন্দাজ) ইলম অর্জন করা ফরয। (বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, শরহুত্ ত্বীবী, মোযাহেরে হক্ব, আশয়াতুল লুময়াত)। ১২। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক (সাঃ) বলেন, “ইলম দু’প্রকার- (১) ক্বলবী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ। আর এটাই মূলতঃ উপকারী ইলম। (২) যবানী ইলম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ্, যা আল্লাহ্ পাক, উনার পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল। (দারিমী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, দাইলামী, বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব)। সকলেই একমত যে, ইলমে তাছাউফ অর্জন করার মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করতঃ হুযূরী ক্বলব হাছিল করা তথা অন্ততঃপক্ষে বিলায়েতে আম হাছিল করা ফরয। এ ফরয ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন কামিল মুর্শিদের নিকট বাইয়াত না হবে। তাই বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয। ১৩। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারীতে উল্লেখ আছে যে, “যে কাজ বা আমল ব্যতীত ফরযসমূহ আদায় করা সম্ভব হয়না, উক্ত ফরযগুলোকে আদায় করার জন্য সে কাজ বা আমল করাও ফরয”। ১৪। হানাফী মায্হাবের মশহুর ফিক্বাহর কিতাব “দুররুল মুখ্তারে উল্লেখ আছে, “যে আমল ব্যতীত কোন ফরয পূর্ণ হয়না; উক্ত ফরয পূর্ণ করার জন্য ঐ আমল করাটাও ফরয”। উল্লিখিত উছুলের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে এটিই প্রমাণিত হয় যে, ফরয পরিমাণ ইল্মে তাছাউফ যেহেতু অর্জন করা ফরয, আর তা যেহেতু কামিল মুর্শিদ বা পীর সাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, সেহেতু একজন কামিল মুর্শিদ অর্থাৎ যিনি সর্বদা আল্লাহ্ পাক (সাঃ)’র যিকিরে মশগুল, তিঁনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয। ১৫। সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত্ ত্বায়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আরো অনেকেই বলেন যে, “যার কোন পীর বা মুর্শিদ নেই তার মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক হলো শয়তান”। (ক্বওলুল জামীল, নুরুন আলা নূর, তাছাউফ তত্ত্ব)। ১৬। হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন শিক্ষা করছ, তাকে দেখে নাও”। (মুসলিম শরীফ)। তাই, ইসলাম কখনও বলে না যে তোমরা কোন ওলী-আল্লাহর কাছে যেও না, বরং তাঁহাদের কাছে যাওয়ার জন্যই নির্দেশ করা হয়েছে। ১৭। আল্লাহ পাক বলেন, “যদি তোমরা না জান, তবে আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালাগণকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও”। (সূরা নহল-৪৩ ও সূরা আম্বিয়া-৭ আয়াত)।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন