শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৩
আল্লাহর ওলিরা মানুষকে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর জগতে ফেরান
: সেলিম ভান্ডারী :
যুগে যুগে কালে কালে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বন্ধুরুপে প্রেরণ করিয়াছেন নবী-রাসুল ও ওলি-আউলিয়াগনকে। যাঁরা আদি থেকে এ পর্যন্ত শুধু মানুষকে পাপ পঙ্কিলতা অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর জগতে ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছেন। আল্লাহর প্রতিনিধি হলেন নবী-রাসুলগন আর নবী-রাসুল গণের প্রতিনিধি হলেন ওলি-আউলিয়াগন। আমরা এ পর্যন্ত জেনে এসেছি ওলি শব্দের অর্থ- আল্লাহর বন্ধু। এ ছাড়াও ওলি-আউলিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে পীরে কেবলা মুর্শিদে কামেল হযরত শাহ্ সূফী গাউসুল আজম বাবাজান কামাল- ডাঃ নূরুজ্জামান মাইজ ভান্ডারী(কেঃ কাঃ) জানান, ওলি অর্থ- নূর বা আলো। কারণ ওলিরা হলেন প্রদত্ত আলো স্বরুপ। যাঁদের মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা আলো রুপেই দুনিয়াতে প্রেরণ করিয়াছেন আঁধারকে দুরীকরণের জন্যে। এ ছাড়াও আল্লাহর নূরে নূরান্বিত হয়েই কামালিয়াত বা ওলিত্ব অর্জন হয়। বিধায় নূর শব্দের অর্থই হলো আলো। আর যাঁরা এই আলোয় আলোকিত হয়ে দুনিয়াতে এসেছেন তাঁদের আলোর ছোঁয়ায় অনেক অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষ আলোর পথে ফিরেছেন। আওলিয়া শব্দটি ওলি শব্দের বহুবচন। ওলি একবচন আর আওলিয়া বহুবচন।
পবিত্র কোরআণ মাজিদে ১০ নং সূরা ইউনুস ৬২-৬৩ আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন বলেছেন- “আলা ইন্না আওলিয়া আল্লাহি লা খাওফুন আ’লাইহিম ওয়া লাহুম ইয়াহ্ঝানুন। আল্লাযীনা আ’মানূ ওয়া কানূ ইয়াত্তাকানূন”। জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওলিদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। এ ছাড়াও ৩ নং সূরা আল্ ইমরান ৬৮ নং আয়াতে বলোছেন- “ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মু’মিনীন”- আর আল্লাহ্ মু’মিনদের অভিভাবক। ৪৫ নং সূরা জাসিয়া ১৯ নং আয়াতে বলেছেন- “ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মুত্তাকীন”- আর আল্লাহ্ মুত্তাকীদের বন্ধু।
মানুষ যখন আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনেন তখন আল্লাহ্তা’লা মু’মিনদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন অর্থাৎ মু’মিনদের অভিভাবক হয়ে যান। এই বান্দাই যখন আল্লাহ্র বন্দেগীতে নিবেদিত প্রাণ হয়ে তাকওয়ার অধিকারী হন তখন আল্লাহ্তা’লা তার বন্ধু হয়ে যান
আল্লাহ্র ওলি- আউলিয়া সকল দেশের সকল মানুষের কাছে খুবই পরিচিত দুটি শব্দ। আমাদের দেশেও এ কথাটি বেশ প্রচলিত আছে যে, অমুকে আল্লাহ্র ওলি বা অমুক আল্লাহ্র ওলি। এই আল্লাহ্র ওলিদের সম্পর্কে আমাদের মধ্যে অনেকের ধারণা তারা কোন না কোনভাবে অতি প্রাকৃতিক কোন মতার অধিকারী। যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’য়ালা পৃথিবীতে অনেক মুজেজা দেখিয়েছেন। যাঁর মাধ্যমে তাঁরা অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন। আবার অনেকেই মনে করেন আল্লাহ্তা’য়ালা তাদেরকে কোন বিশেষ মতার অধিকারী করে দিয়েছেন, যে মতার বলে অতি প্রাকৃতিকভাবে যে কোন মানুষের মঙ্গল সাধন তারা করতে পারেন, যদি তারা ইচ্ছা করেন। এদেশে সাধারনতঃ পীর দাবীদার শ্রেণীটির মধ্যে আল্লাহ্র ওলি কথাটির প্রচলন বেশি দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে আবার আরেকটু বেশি মর্যাদা সম্পন্ন হবেন হয়তো, তাই তারা বলেন ওলিয়ে কামেল অর্থাৎ পরিপূর্ণ ওলি। এর বাস্তব উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় আমাদের এই ভু-খন্ডে ৩৬০ জন ওলির পদার্পণ ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হযরত শাহ্জালাল (রঃ), হযরত শাহ্ পরাণ (রঃ), হযরত শাহ্ মাকদুম (রঃ), হযরত শাহ্ দৌলা (রঃ), হযরত বায়েজীত বোস্তামী (রঃ), হযরত শাহ্ এনায়েত পুরী (রঃ), সৈয়দ আহাম্মদ আলী মাইজ ভান্ডারী (রহঃ) আরও শত শত ওলি-আউলিয়ার অবস্থান রয়েছে এই বাংলাদেশে। নয়া জামানার আউলিয়ায়ে সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজ ভান্ডারী(রঃ), হযরত বাবা কামাল উদ্দিন মাইজ ভান্ডারী(রঃ) সহ আরও অনেকে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন